যাকাতের সাধারণ মাসআলা, আলোচনায় - মুফতী সোহরাব হুসেইন কাছিমি সাহেব, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, বারহালী
যাকাতের সাধারণ মাসআলা
আলোচনায় - মুফতী সোহরাব হুসেইন কাছিমি সাহেব
হাফিজিয়া মাদ্রাসা , বারহালী কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
১.১ যাকাত
কি?
উঃ- যাকাত একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হল
পাক পবিত্র করা । শরিয়ত মতে সাহেবে নেছাব অর্থাৎ যে ব্যক্তি সাড়ে বায়ান্ন তোলা বা
এরচেয়ে বেশী রৌপ্য মুদ্রার সমতুল্য সম্পত্তির মালিক হবে, সেই ব্যক্তির উপর তাঁর সম্পত্তির
চল্লিশ ভাগের এক ভাগ আদায় করা ফরয। এই আদায়কৃত অংশকে যাকাত বলে। ইহার দ্বারা অবশিষ্ট
বাকি মাল পাক পবিত্র হয়।
*মাস'আলা
- যাকাত
আদায়কারী – মুসলমান, আজাদ, বালিগ এবং আকল ওয়ালা হতে হবে। সুতরাং, বিধর্মী, গোলাম
বান্দী, নাবালিগ এবং পাগলের উপর যাকাত ফরয হবে না । (ফতোয়া আলমগিরি ১ম খন্ড ১৭২ পৃষ্ঠা)
**মালের
উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত পাওয়া জরুরী-
·
মাল
নেছাব পরিমাণ হতে হবে (নেছাবের কথা পরে আসবে) ।
·
এই
মালের উপর পূর্ণ মালিকানা থাকতে হবে।
·
নেছাব
নিজের নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরত্ থেকে অতিরিক্ত হতে হবে।
·
নেছাব
পরিমাণ মাল ঋণ থেকে খালি হতে হবে। অর্থাৎ ঋণ থাকলে তাহা আদায় করার পর অবশিষ্ট মাল
নেছাব পরিমাণ হতে হবে।
·
মাল-নামী
হতে হবে। মাল-নামী ঐ মালকে বলা হয় যাহা বাড়ার যোগ্যতা রাখে। যেমন- সোণা, রোপা, বা
ব্যবসায়ের মাল । (ফতোয়া শামী ৩য় খন্ড ১৭৪ পৃষ্ঠা, আলমগিরি ১ম খন্ড ১৭২ পৃষ্ঠা)
১.২ যাকাত
দেওয়া কেন প্রয়োজনীয়?
উঃ- যাকাত দেওয়া শুধু প্রয়োজনীয় নয়,
বরং ফরয। কারণ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ এর মধ্যে ৩য় স্তম্ভ হচ্ছে যাকাত। অর্থাৎ যেভাবে
আমাদের উপর নামাজ ফরয, রোজা ফরয, সেভাবে নেছাব পরিমাণ মাল থাকলে যাকাত ও ফরয। আর যাকাতের ব্যাপারে যে কৃপণতা করবে তার জন্য কঠোর
শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে।যাকাত বা ফিতরা গরীবদের কে দেওয়া কোনো অনুগ্রহ মূলক দান নয়,
বরং ইহা গরিবদের ন্যায্য পাওনা (হক) , যাহা আল্লাহ তায়ালা ধনীর মালের মধ্যে গরিবদের
অংশ নির্ধারিত করে দিয়েছেন। তাই কোনো ধনী ব্যাক্তি যদি যাকাত না দেয় তবে সে পরের
হক আত্মসাৎ কারী বলে গণ্য হবে। আর কিয়ামতের দিন পরের হক আত্মসাৎ কারী কে ততক্ষণ মাফ
করা হবে না যতক্ষণ হকদার নিজে মাফ করবেন না। সুরাহ্ যারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ
তায়ালা ফর্মাইতেছেন, "এবং তাদের (ধনীদের) ধন সম্পদে (অভাবী) প্রার্থী ও বঞ্চিত
দের হক ছিল। " যদি কোনো সম্পত্তিশালী ব্যক্তি নেসাবের মালিক হওয়া সত্বেও যাকাত
আদায় করে না, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে বিষধর সাপে রূপান্তরিত করবেন।
অতঃপর সাপটি তাকে এই বলে দংশন করতে থাকবে যে, " আমি তুমার সম্পত্তি, আমি তুমার
জমাকৃত ধন। " আল্লাহ তায়ালা সুরা তাওবার ৩৪ ও ৩৫ নম্বর আয়াতে অনেক কঠোর ভাবে
ফরমাইতেছেন যে, যারা সোনা, রূপা অর্থাৎ মাল সম্পত্তি জমা করে রাখে আল্লাহর রাস্তায়
খরচ করে না, নবী (স:) যেন ওদেরকে কঠোর শাস্তির সুসংবাদ দেন। আখেরাতের দিন তাদের মাল
সম্পদ দুযোখের আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপালে, পার্শ্বে ও পিঠে গরম শেখ দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে এই
হচ্ছে তোমাদের জমাকৃত সম্পদ যাহা তোমরা তোমাদের জন্য রেখেছিলে। সুতরাং এখন ইহার স্বাদ
উপভোগ করো। কেয়ামতের এই ভয়াবহ শাস্তি হতে নিজে বাঁচতে ও অপরকে বাঁচাতে আসুন আমরা সবাই
যাকাতের কিছু মাসআলা শিখি।

১.৩
যাকাত দেওয়ার নিয়ম কি?
উঃ- নিয়ম জানতে হলে প্রথমে আমাদের যাকাতের
নেছাব জানতে হবে। যাকাতের নেছাব হচ্ছে ঐ রকম – সোনার নেছাব আরবী ওজন হিসাবে ২০ মিছকাল,
যার ওজন তোলার হিসাবে সাড়ে সাত তোলা, আর গ্রামের হিসাবে ৮৭ গ্রাম ৪৮০ মিঃ গ্রাঃ হয়।রোপার
নেছাব আরবী ওজন হিসাবে ২০০ দিরহাম যাহা তোলার হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা আর গ্রামের
হিসাবে ৬১২ গ্রাম ৩৬০ মিঃ গ্রাঃ হয়। (তাতার খানিয়া ৩য় খণ্ড ২২৪ পৃষ্ঠা)
এখন প্রশ্ন
উঠে যে, কোনটি কে নেছাব মেনে যাকাত আদায় করব, যেহেতু উভয়টার বাজার মূল্য একটা অন্যটা
হতে প্রায় দশগুণ পার্থক্য?
তার উত্তর হবে – উভয়টি
হইতে দেখা যাবে কোনটিকে নেছাব মানলে বেশী মানুষের উপর যাকাত ফরয হয়। এই হিসাবে আমরা
দেখি যে, বর্তমানে রোপা দিয়ে যদি নেছাব ধরি তাহলে বেশী সংখ্যক মানুষের উপর যাকাত ফরয
হবে। কারণ ৫২.৫ তোলা রোপার বর্তমান বাজার মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা হবে; আর ৭.৫
তোলা সোণার বর্তমান বাজার মূল্য এর চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশী হবে । তাই যদি সোণাকে নেছাব
বানানো হয়, তাহলে অতি কম সংখ্যক মানুষের উপর যাকাত ফরয হবে । এতে গরীবদের ক্ষতি হবে ।
সুতরাং বর্তমান যুগে ৫২.৫ তোলা রুপাকেই
নেছাব বানাইয়া যাকাত আদায় করলে অনেক মানুষের উপর যাকাত ফরয হবে, যার দরুণ গরীব মানুষেরা
উপকৃত হবে ।
যেমন – বর্তমানে আজকে মনে করি ৫২.৫ রোপার বাজার
মূল্য ৪০,০০০ টাকা। তখন আমি দেখব আমার কাছে সারা বৎসর যাবতীয় খরচ করে যাকাত হিসাব
করার দিন ৪০,০০০ টাকা বা তার সমতূল্য জরুরতের জিনিস ছাড়া অন্য কোন ব্যবসার বস্তু বা
সোণা-রোপা আছে কি না? যদি থাকে তাহলে আমার উপর বর্তমান টাকার উপর যাকাত ফরয হবে ।
এখন মনে করেন, আমার কাছে সামান্য রোপা আর সামান্য
সোণা আছে আর কিছু টাকাও আছে । কোনোটি
কিন্তু নেছাব পরিমাণ নয় অর্থাৎ সোণা ৭.৫ তোলাও নয় আর রোপাও ৫২.৫ তোলা নয়, বরং এর
চেয়ে কম । তখন আমি একটি কাজ করব – যে পরিমাণ সোণা-রোপা আছে আমার কাছে তাহার বাজার
মূল্য বাহির করিব আর এই বাজার মূল্য এবং হাতের কিছু টাকা মিলাইয়া দেখব যে ৫২.৫ তোলা
রোপার বাজার মূল্যের সমান হয়েছে কী? যদি সমান বা তার উপর হয় তখন আমার উপর যাকাত ফরয
হয়ে যাবে । আর যদি কম হয় তখন আর যাকাত ফরয হবেনা ।
যখন নেছাবের মালিক হয়ে
এর উপর চন্দ্রমাসের হিসাবে পুরো এক বৎসর অতিক্রম হয়ে যাবে তখন এই মালের উপর ১/৪০ অর্থাৎ
২.৫% যাকাত হবে । যেমন – ১০০ টাকায় ২.৫ টাকা, ১ হাজারে ২৫ টাকা, ১ লাখে ২৫০০ টাকা
। (ফতোয়া শামী ৩য় খণ্ড ২৩৪ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যাকাত
চন্দ্রমাসের হিসাবে দিতে হয় । যেমন – আমি এই বৎসর মনে করেন রমজানের ১ তারিখ হিসাব
করেছি । আমাকে প্রত্যেক বৎসর রমজানের ১ তারিখ হিসাব করতে হবে । একদিনও এদিক সেদিক করতে
পারবো না। (ফতোয়া শামী ৩য় খণ্ড ১৭৫ পৃষ্ঠা আলম গিরি ১ম খণ্ড ১৭৫ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যাকাত
আদায়ের জন্য শর্ত হচ্ছে তমলিক অর্থাৎ কোনো গরীব ব্যাক্তি নিজে মালিক হইয়া গ্রহণ করতে
হইবে। যার দরুন কাউকে মালিক না বানাইয়া যদি কোনো সার্বজনীন কাজে লাগানো হয়, তাহলে
যাকাত আদায় হবে না। (আলমুহিতুল বোরহানী ৩য় খণ্ড ২১৪ পৃষ্ঠা, বহরুর রা ইক্ক ২য়
খণ্ড ২০১ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যাকাত
আদায়ের জন্য নিয়ত জরুরী, এই নিয়ত যাকাত দেওয়ার সময় কিংবা যাকাত আলগ করার সময়
ও করতে পারবেন। (মারাকিল ফালাহ ৩৮৯ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- মনে
করেন যাকাত হিসাব করার তারিখে আমার কাছে নেছাব পরিমাণ মাল ছিল, আবার বৎসরের মাঝখানে
একদম ফকির হয়ে গেলাম, আবাার আগামী হিসাবের তারিখে নেছাবের মালিক হযযে গেলাম । তখনও
আমাকে যাকাত দিতে হবে ।(আলমগিরি ১ম খণ্ড ১৭৫ পৃষ্ঠা)
আর যদি পুরো
বৎসর নেছাবের মালিক ছিলাম, কিন্তু হিসাবের দিন মাল নেছাবের চেয়ে কম হয়ে গেল, তখন
আমার বিগত বৎসরের যাকাত মাফ হয়ে যাবে ।(তাতার খানিয়া ৩য় খণ্ড ২৩৭ পৃষ্ঠা) এরজন্যই
তারিখ নির্ধারিত করা জরুরী । কারণ হিসাবের নির্ধারিত তারিখের উপরই নির্ভর করবে যাকাত
ফরয হয়েছে কি-না ।
*মাস'আলা
- মেয়েলোকের ব্যবহারের সোণা-রোপার উপর যাকাত দিতে
হবে যদি নেছাব পরিমাণ হয়ে যায়।(ফতোয়া শামী ৩য় খণ্ড ২৩৪ পৃষ্ঠা) উদাহরণস্বরুপ – কোনো
মেয়েলোকের কাছে আধা তোলা সোণা, পাঁচ তোলা রোপা, এবং টাকা আরো বিশ হাজার আছে । তখন
মাসলা মতে আধা তোলা সোণার, এবং পাঁচ তোলা রোপার বাজার মূল্য বাহির করে যতটাকা হবে,
সেই টাকা এবং বিশ হাজার টাকা মিলাইয়া যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপার সমতুল্য দাম হয়ে
যায়, তখন এই মেয়েলোকও যাকাত দিতে হবে। পরিবারের প্রত্যেক মহিলা সদস্যের আলাদা ভাবে
যাকাতের হিসাব করা হবে। যদি কোনো মেয়েলোকের
শুধু সোনা অলঙ্কার হিসাবে থাকে অন্য কোনো ধরণের সম্পত্তি থাকেনা
তখন সোনার পরিমাণ ৮৭.৪৮ গ্রাম বা এর
থেকে বেশী থাকিলেই যাকাত দিতে হবে এই পরিমাণ থেকে কম থাকলে যাকাত দিতে লাগবে না। যদি একজন মেয়েলোকের
মালিকানায় সোনা ও রূপা দুটা পণ্যই অলঙ্কার হিসাবে থাকে কিংবা শুধু সোনা ও কিছু টাকা
থাকে তখন কিন্তু ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার বাজার
দরের সমতুল্য বা এর চেয়ে বেশী পরিমাণ সম্পত্তি থাকলেই যাকাত দিতে হবে। যাকাত সম্পত্তির
মালিক , এই ক্ষেত্রে মেয়েলোককে নিজে দিতে হবে। তবে হ্যা যদি অন্য কেহ তার পক্ষ হইতে
যাকাত আদায় করেন তখন ও হইয়া যাইবে। যেমন স্বামী স্ত্রীর পক্ষ হইতে স্ত্রীর যাকাত
আদায় করিলে হইয়া যাইবে। উভয়টাই শরিয়ত সম্মত।
কেহ কেহ বলেন মেয়েলোকের ব্যবহারের অলঙ্কারে যাকাত
ফরজ হয়না। ইহা একদম ভুল কথা । কারণ যাকাত মালে নামীর উপর ফরয হয়। আর মালে নামী ঐ মালকে
বলা হয় যার মধ্যে বাড়ার যোগ্যতা আছে। আর বাড়ার যোগ্যতা সম্পন্ন মাল তিন প্রকার
(১)সোনা ও রোপা (২)নগদ টাকা (৩)ব্যাবসার সম্পত্তি। সোনা ও রূপা এমন এক ধরণের পণ্য যাহা
যে কোনো সময় বিনিময়ের ক্ষমতা রাখে। সোনা ও রূপা ব্যবহারের হোক বা ব্যবসার জন্য হোক, উপরে আলোচনা করা মত নিসাব পরিমাণ হলেই যাকাত দিতে
হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, একদা নবীয়ে করিম (সা:) ঘরে এসে হজরত আয়েশা (রা:) এর হাতে
একটি রূপার আংটি দেখতে পেলেন। আয়েশা (রা:) আংটিটি কোথায় পেয়েছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি
বললেন যে ইহা কেউ একজন তাহাকে হাদিয়া দিয়েছেন।
হুজুর (সাঃ) তখন আয়েশা (রা:) কে সতর্ক করে বললেন যে যদি তুমি এই আংটির বদলে আখেরাতে
দুজোখের আগুনের আংটি লাগানো হতে বাঁচতে চাও, তাহলে ইহার যাকাত আদায় কর ।
আমরা যখন আমাদের জমানো
টাকা/সম্পত্তি বা নিজস্ব ব্যবহারের অলঙ্কারের উপর যাকাত দেই তখন আমরা ইহার বিনিময়
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকেই পাওয়ার আশা রাখি, যে আশা অত্যন্ত আনন্দের, শান্তি
দায়ক এবং ইতিবাচক।
*মাস'আলা
- LIC
- FIXED DEPOSIT – বা অন্যান্য যেকোনো ভাবেই নিজের পয়সা জমাইয়া রাখলে, সেই জমা টাকার
মূল পয়সার যাকাত ফরয হবে, যদি নেছাব পরিমাণ হয় । অর্থাৎ যেদিন হিসাব করা হবে সেই
হিসাবের মধ্যেও এই মুল পয়সাগুলি সামিল করে হিসাব করতে হবে । কিন্তু একটি কথা খেয়াল
রাখতে হবে যে, LIC বা FIXED DEPOSIT এ সূদ বলে যে টাকা দিবে সেই সূদের অংশটি হিসাবে
আসবে না । কারণ সূদের পয়সায় যাকাত ফরয হয়না এইগুলি সম্পুর্ণ হারাম । (আলমগিরি
১ম খণ্ড ১৭৫ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যে
কোনো ব্যবসায় যে টাকা INVEST করা হবে, সেই টাকার লাভ ও মূলধন যাকাতের হিসাবে আসবে।
(আলম গিরি ১ম খণ্ড ১৭২ পৃষ্টা ও বাদাইউস সানাই ২য় খণ্ড
৮৮ পৃষ্ঠা) যেমন
– হিসাবের দিন দোকানের সম্পুর্ণ মাল হিসাব করে তাহা মোট সম্পত্তির সঙ্গে জোড়ে যাকাত
দিতে হবে ।
*মাস'আলা
- যেকোনো
জিনিস ব্যবসার নিয়তে ক্রয় করে পরে নিজের ব্যবহারের ইচ্ছা হইলে, এবং এই জিনিস নিজের
ব্যবহারে লাগাইয়া দিলে তাহার উপর যাকাত দিতে হবেনা । (আলমগিরি ১ম খণ্ড ১৭৪ পৃষ্টা,
শামী ৩য় খণ্ড ১৯২ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যে
জমিন বা প্লট ব্যবসার নিয়তে ক্রয় করা হয়, সেই জমিনের বর্তমান মূল্যের উপর যাকাত
দিতে হবে। (আলমগিরি ১ম খণ্ড ১৭৯ পৃষ্টা, বাহরুর বা-ইক ২য় খণ্ড ৩৯৮ পৃষ্ঠা) যেমন
–এক বৎসর আগে ৫ লক্ষ দিয়ে ক্রয় করে এক বৎসর পরে ৭ লক্ষ হয়ে গেছে, তখন ৭ লক্ষের উপর
যাকাত দিতে হবে ।
*মাস'আলা
- জমি
ক্রয় করতে তিন রকমের নিয়ত হতে পারে আর সেই নিয়তের হিসাবে মাসলা আসিবে - (১) ব্যবসা
করার নিয়তে, (২) নিজে ব্যবহার করার নিয়তে ও (৩) ঘর বানাইয়া ভাড়া দেওয়ার নিয়তে।
১ নম্বরের মাসলা উপরে আলোচনা করা হয়েছে,
২ নম্বরের যাকাত লাগবেনা আর ৩ নম্বরের মাসলা হইল- ঘর ভাড়া বাৎসরিক যাহা আসবে তাহার
উপর যাকাত দিতে হবে জমির বাজারদরের উপর নহে।
*মাস'আলা
- COMMERCIAL
গাড়ি যেমন ট্রাক, ট্রাক্টর ইত্যাদি বা যে কোনো গাড়ি বা মেশিন যে গুলু দিয়ে রোজগার
করা হয়, এই সমস্ত গাড়ি বা মেশিন এর মূল দামের যাকাত দিতে হয়না। এগুলো দিয়ে বাৎসরিক
যে ইনকাম আসবে সেই ইনকাম এর উপর যাকাত দিতে হবে। (আলম গিরি ১ম খণ্ড ১৭২ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- মুরগির
ফার্ম এর মামলা: - যদি মুরগি দিয়ে ডিম দেওয়ানো উদ্দেশ্য হয়, মুরগি বিক্রি করা নয়
তবে মুরগির দামের উপর যাকাত দিতে হবে না। বরং ডিম দ্বারা আয়ের উপর যাকাত দিতে হবে।
আর যদি মুরগি বিক্রয় উদ্দেশ্য হয় যেমন আমাদের অঞ্চলে, তাহলে এই অবস্থায় বৎসর পূর্ণ
হওয়ার পর হিসাবের দিন যত টাকার মুরগি থাকবে তার যাকাত দিতে হবে মুরগির বিক্রয় মূল্য
ধরে ।
(শামী ৩য় খণ্ড ১৮৩ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যদি
কোনো সাহেবে নেছাব ব্যক্তি হজ্জের জন্য টাকা জমা করে রাখেন, আর হজ্জে যাওয়ার আগে যাকাতের
হিসাবের দিন এসে পড়ে, তখন ঐ ব্যক্তির হজ্জের জন্য জমা রাখা টাকা হিসাবে সামিল করে
যাকাত দিতে হবে। আর যদি হজ্জ কমিটিতে সম্পূর্ণ টাকা জমা দেওয়ার পর যাকাতের হিসাবের
দিন আসে তবে যাকাত হিসাব করার সময় হজ্জের জন্য জমা করা টাকা হইতে ফ্লাইট ভাড়া, মুয়াল্লিম
ফি এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচ বাদ দিয়া যে টাকা মক্কায় যাওয়ার পর ঘুরাইয়া দেওয়া হয়,
সেই টাকা যাকাতের হিসাবে সামিল করিয়া তাহার যাকাত দিতে হবে।(শামী ৩য় খণ্ড ১৭৯ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যদি
কোনো মানুষ নিজস্ব ঘর বানানোর জন্য টাকা জমা রাখে, কিন্তু ঘর বানায়নাই, এমতাবস্থায়
যদি যাকাতের হিসাবের দিন এসে যায়, তবে সেই জমা রাখা টাকাও সম্পত্তির হিসাবের সঙ্গে
সামিল করে যাকাত দিতে হবে। (শামী ৩য় খণ্ড ১৭৯ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- কর্জ
বা ঋণ এর উপর যাকাত :—যদি ঋণদার ঋণ থেকে অস্বীকার করে আর ঋণ দাতার কাছে কোন প্রমাণ
ও নাই, মোটকথা এই ঋণ পাওয়ার কোন আশা নাই । তাহলে এই ঋণের উপর যাকাত ফরয হবেনা ।হ্যাঁ
যদি কোনোদিন পাওয়া যায়, এর পর হতে যাকাত ফরয হবে । বিগত দিনের যাকাত দিতে হবেনা ।
আর যদি ঋণ কাগজপত্রে প্রমাণ থাকে এবং সময়মতো পাওয়ারও আশা থাকে, তখন সেই ঋণের যাকাত
ঋণ দাতার উপর প্রতি বৎসর ফরয হবে ।(আলমগিরি ১ম খণ্ড ১৭৪ পৃষ্ঠা)
যেমন – এক ব্যক্তি ৫ লক্ষ
টাকা কাহাকে ঋণ দিয়েছে পাঁচ বৎসরের জন্য আর এই ঋণ পাওয়ারও আশা আছে, তাহলে ঋণদাতা
যখন যাকাতের হিসাব করবেন তখন এই ৫ লক্ষ টাকাও সামিল করে যাকাত দিতে হবে ।
*মাস'আলা
- ব্যবসার
বস্তুর বিক্রয়মূল্যের হিসাবে যাকাত দিতে হয়, ক্রয়মূল্যের হিসাবে নয় । (শামী
৩য় খণ্ড ২২৯ পৃষ্ঠা)
যেমন – দোকানে একটি বস্তু
ক্রয় করলেন ১০০ টাকা দিয়ে, আর এই বস্তু বিক্রি করবেন ১৫০ টাকা । তাই যখন যাকাত হিসাব
করবেন তখন বিক্রয় মূল্য ১৫০ টাকার হিসাবে যাকাত দিতে হবে ।
১.৪ কোন
কোন জিনিসে যাকাত ফরয নয় ?
নিম্নলিখিত জিনিসে যাকাত
ফরয হয় না, যত দামিই হোক না কেন -
·
নিজের
থাকার ঘর ।
·
ভাড়া
দেওয়ার জন্য বানানো ঘর, বা বিল্ডিং – হ্যাঁ ভাড়াটি ঘরের বাৎসরিক আয়ের উপর যাকাত
দিতে হবে ।
·
নিজের
ব্যবহারের কাপড় ।
·
ঘরের
যাবতীয় ব্যবহারের বস্তু, যেমন – ফ্রিজ, কোলার, ফেন, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি ।
·
যানবাহন,
যেমন – দুই-চার চাকার গাড়ি বা যত দামি গাড়িই হোক না কেন, যদি নিজের ব্যবহারের হয়,
যাকাত ফরয হবে না ।
·
নিজের
হিফাজতের জন্য রাখা হাতিয়ার ।
·
ঘরে
রাখা নিজের খাওয়াদাওয়ার যাবতীয় বস্তু ।
·
ঘরে
অতিথিদের জন্য রাখা অতিরিক্ত বর্তন যেগুলো বৎসরে একবারও ব্যবহার হয়না, তবুও যাকাত
ফরয হবেনা
·
হিরা,
মণি, মুক্তা – যেগুলো ব্যবহারের জন্য ।
·
পড়ার
বই, পুস্তক ইত্যাদি ।
·
কৃষি
কাজের বস্তু, মেশিন, কারখানা, ফেক্টরি, ভাড়া দেওয়ার যত রকমের যানবাহন, ট্রেক্টর,
মোট কথা প্রত্যেক ঐ রকমের জিনিস যাহা ব্যবসার জন্য নয় বরং নিজের ব্যবহারের জন্য বা
উহার দ্বারা ইনকাম করার জন্য যদি রাখা হয় তাহলে ইহার উপর যাকাত দিতে হবে না – হ্যাঁ
ইনকাম হিসাব করে ইনকামের উপর যাকাত দিতে হবে । (তাতার খানিয়া ৩য় খণ্ড ১৭৩ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- হিরা,
মতি যদি ব্যবহারের হয় তবে ইহার উপর যাকাত ফরজ হইবে না। আর যদি ব্যবসার জন্য হয় তবে
বিক্রয়মূল্য এর উপর যাকাত ফরজ হইবে।
১.৫ যাকাত
কাকে দেওয়া যাবে?
·
ফকির
অর্থাৎ জার কাছে নেসাব পরিমাণ মাল নেই।
·
মিসকিন
অর্থাৎ যার কাছে কোনো প্রকারের মাল নেই।
·
ইসলামিক
দেশের বাদশাহ এর পক্ষ থেকে মনোনীত ঐ ব্যাক্তি যে মানুষের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহ করে।
·
এই
রকম ঋণ দার ব্যাক্তি যার কাছে ঋণ আদায়ের মত কোনো প্রকার মাল নাই। তাকে ঋণ থেকে মুক্ত
করতে যাকাত দেওয়া যাবে।
·
মুসাফির
কে যাকাত দেওয়া যাবে। অর্থাৎ যে ব্যাক্তি ৪৮ মাইল বা তার চেয়ে বেশী ভ্রমণ করেছে ও
তার মাল শেষ হইয়া গিয়াছে এবং পাওয়ার মত ও কোনো ব্যবস্থা নেই তাকেও যাকাত দেওয়া
যাবে। এই মুসাফির যদি সম্পদশালী লোক ও হয় তবুও তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। (মারাকিল
ফালাহ ৩৯২ পৃষ্ঠা, শামী ৩য় খণ্ড ২৮৩ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- নিকটতম
আত্মীয় যদি ফকির মিসকিন হয়, তবে তাকে যাকাত দিলে দুইগুণ সাওয়াব পাওয়া যাবে । এক
যাকাত দেওয়ার, দ্বিতীয়ত আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করার। যেমন - ভাই, বোন, চাচা,
ফুফু, মামা, মামী, ভাগ্না, ভাগ্নি। (আলমগিরি ১ম খণ্ড ১৯০ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- সৎ
মা, পুত্রবধূ ও দামাদ কে যাকাত দেওয়া যাবে যখন এরা উপযুক্ত হবে অর্থাৎ ফকির বা মিসকিন
হবে। (শামী ৩য় খণ্ড ২৯৩ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা - ঘরের কাজের লোকদের বেতন ছাড়া অতিরিক্ত টাকা যাকাত হিসাবে দান
করতে পারবেন। বেতন বাবৎ কাটলে যাকাত আদায় হবেনা। (আলম গিরি ১ম খণ্ড ১৯০ পৃষ্ঠা)
*জরুরী মাস'আলা - যদি বাবা
ও ছেলের মধ্যে বাবা ফকির বা মিসকিন হয়, আর ছেলে বিশাল সম্পত্তির মালিক ও হয় তবুও ওই
গরীব বাবাকে যাকাত দেওয়া যাবে। কারণ ছেলে ধনী হলে বাবাকে ধনী গণ্য করা হবে না ঠিক
তদ্রুপ বাবা ধনী হলে ছেলেকে ধনী গণ্য করা হবে না, তবে ধনী ছেলে গরীব বাবাকে এবং ধনী
বাবা গরীব ছেলেকে যাকাত দিতে পারবেন না। ১.৬ অনুচ্ছেদ এ আলোচিত সম্পর্কিত ব্যাক্তি ছাড়া অন্য যে কোনো
তৃতীয় ব্যাক্তি ধনী ছেলের গরীব বাবাকে ও ধনী বাবার গরীব ছেলেকে যাকাত দিতে
পারবেন। (আলম
গিরি ১ম খণ্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা)
১.৬ যাকাত
কাকে দেওয়া যাবে না?
·
বাপ,
দাদা, পরদাদা, নানা, পরনানা, এইভাবে দাদী, পরদাদী, নানী, পর নানী তাদের যাকাত দেওয়া
যাবে না।
·
ছেলে
মেয়ে ও উভয়ের আওলাদ অথবা বংশধরদের যাকাত দেওয়া যাবে না।
·
স্বামী
স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে যাকাত দিতে পারবেন না।
·
বিধর্মীকে
যাকাত দেওয়া যাবে না তবে হ্যা নফল সদকা দেওয়া যাবে।
·
সাহেবে
নেছাব কে দেওয়া যাবে না।
·
সাহেবে
নেছাব ব্যাক্তির নবালিগ বাচ্চাকে যাকাত দেওয়া যাবে না তবে হ্যা বালিগ হলে দিতে পারবেন।
·
আরও
লোক আছেন যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে না তবে তাদেরকে যাকাত দেওয়ার প্রচলন আমাদের এতদ
- অঞ্চলে নাই। (মারাকিল ফালাহ ৩৯৩ পৃষ্ঠা, শামী ৩য় খণ্ড ২৯৪ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- পাগল
নবালিগকে যাকাত দিলে আদায় হবেনা তবে যদি ওদের কোনো আত্মীয় ওদের পক্ষ হইতে গ্রহণ করে নিয়ে থাকে তাহলে যাকাত
আদায় হয়ে যাবে। (আলমুহিতুল বোরহানী ৩য় খণ্ড ২১৪ পৃষ্ঠা, শামী ৩য় খণ্ড ৩০৭ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যাকাতের
টাকা মসজিদে লাগানো যায়েজ নয়। (শামী ৩য় খণ্ড ২১২ পৃষ্ঠা, আলম গিরি ১ম খণ্ড ১৮৮
পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- সার্বজনীন
কাজের জন্য যাকাতের টাকা দান করতে পারবেন না। তবে যদি যাকাত গ্রহণ করার যোগ্য ব্যক্তি
নিজে মালিক হয়ে যাকাত গ্রহণ করিয়া তারপরে সার্বজনীন কাজে বা মসজিদে দান করেন তবে কোনো
অসুবিধা নেই। (তাতার খানিয়া ৩য় খণ্ড ২০৮ পৃষ্ঠা, তাবয়ীনুল হাকাইক ২য় খণ্ড ১২০ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- যাকাতের
টাকা দিয়ে মাইয়োতের কাফন দাফন যায়েজ নয়। হ্যা যদি কাফন দেওয়ার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা
না থাকে তবে কোনো গরিবকে প্রথমে যাকাতের টাকা দেওয়া হবে আর সে মালিক হইয়া এরপরে যদি
মাইয়োতের কাফন দাফনে লাগায় তাহলে যাকাত ও আদায় হবে আর কাফন দাফন ও যায়েজ হবে। (আলম
গিরি ১ম খণ্ড ১৮৮ পৃষ্ঠা)
*মাস'আলা
- মাদ্রাসায়
যাকাত দিলে দুগুন সাওয়াব হইবে, প্রতমতঃ যাকাতের সাওয়াব এবং দ্বিতীয়তঃ দ্বীনের প্রচার
এবং হিফাজত এর সাওয়াব। (আলম গিরি ১ম খণ্ড ১৮৭ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যাকাত কি অগ্রিম আদায় করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, যাকাত অগ্রিম আদায় করা যাবে। পরে যখন হিসাব করবেন,
অগ্রিম আদায় করা টাকা কর্তন করে বাকি গুলি আদায় করবেন। (ফতোয়া তাতারখানিয়া
২য় খন্ড, ২৫৩ পৃষ্ঠা; ছুনানে তিরমিযী ১খন্ড, ১৪৬ পৃষ্ঠা)
রমজান মাসে সিয়াম সাধনার সঙ্গে
একটি বিশেষ এবাদতের কাজ হলো ফিতরা দেওয়া।
আসুন ফিতরা
বিষয়ে কিছু বুনিয়াদী কথা জানি-
ফিৎরার পরিমাণ: - ফিৎরা = আটা,
খেজুর, কিসমিস, ও জব ঐগুলো হইতে যে কোনোটি বা তার বাজার মূল্য হিসাবে টাকা দিতে পারবেন
। যদি আটা দ্বারা দেওয়া হয়, তাহলে ১৬৩৩ গ্রাম আটার বাজার মূল্য যতটাকা হবে তাহা দিতে
হবে । আর খেজুর, কিসমিস, জব এইগুলো দিলে আটার দ্বিগুন অর্থাৎ ৩২৬৬ গ্রাম (৩ কেজি ২৬৬
গ্রাম) এর বাজার মূল্য যত টাকা হবে তাহা দিতে হবে । বর্তমানে আমাদের এলাকায় খেজুর,
কিসমিস, জব হইতে আটার মূল্য অনেক কম, যার দরুণ যদি খেজুর, কিসমিস ও জব এই তিনটি হইতে
যেকোনো একটির বাজার মূল্য হিসাবে ফিৎরা দেওয়া হয়, তাহলে গরীবেরা অনেক উপকৃত হবেন
। কারণ এই তিনটির হিসাবে ফিৎরা দিলে এক একটি ফিৎরা ৩০০ টাকার উপর হবে । একটি
কথা আমাদের খুব খেয়াল রাখতে হবে যে, উল্লেখিত খাদ্য দ্রব্যের
যদি বাজারমূল্য হিসাবে ফিতরা দিতে চান, তাহলে
নিজের এলাকার যেসব দোকান বা ষ্টোর থেকে নিজে খাদ্য দ্রব্য কিনেন, সেখানের
হিসাবে বাজারমূল্য ধরে ফিতরা দিবেন। যেমন খেজুর দ্বারা দিলে আপনার এলাকার দোকানে
বা ষ্টোরে বিভিন্ন মূল্যের খেজুর থেকে যে কোন একটির ৩ কেজি ২৬৬ গ্রাম এর
বাজারমূল্য যত টাকা হইবে সেই মূল্য টাই একটা ফিতরা হইবে। ঠিক তদ্রুপ কিসমিস, জব
এর মধ্যেও ৩ কেজি ২৬৬ গ্রাম এর বাজারমূল্য নির্ধারণ করে ফিতরার মূল্য নিজে
নির্ধারণ করবেন। আর আটা দ্বারা দিলে ১৬৩৩ গ্রাম আটার বাজারমূল্য নিজের এলাকার
দোকান বা ষ্টোর থেকে নির্ধারণ করে ফিতরা আদায় করবেন।
এদিকেও
খেয়াল রাখা উত্তম যেমন খেজুর, আটা, কিসমিস
এইগুলোর মধ্যে বিভিন্ন কোয়ালিটির খেজুর, আটা ও কিসমিস রয়েছে। তাই
উত্তম হল আপনি নিজে যেটা ব্যবহার করেন সেইটার বাজারমূল্য নির্ধারণ করবেন। যেমন
আপনি প্যাকেটের খেজুর, আটা, কিসমিস
ব্যবহার করেন আর ফিতরা দিতে খোলা লোজ মালের মূল্য হিসাবে ফিতরা দিতেছেন, এতে
ফিতরা তো আদায় হয়ে যাবে কিন্তু পরিপূর্ণ হওয়ার সাওয়াব পাবেন না।
নোট:
এলাকা ভিত্তিক বস্তুর মূল্য কম বেশি হয়ে থাকে। তাই শিলচর থেকে হাইলাকান্দি বা
করিমগঞ্জের বা হাইলাকান্দি থেকে শিলচর ও আশপাশ এলাকার ফিতরার মূল্য নির্ধারণ করা
ঠিক হবে না। যিনি ফিতরা দিবেন তিনি নিজেই ওজন হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করবেন। ওজনের
পরিমাণ প্রথমেই বর্ণনা করা হয়েছে।
মাস আলা
QR Code এর মাধ্যমে যাকাত বা ফিতরা
দেওয়া:-
এ বিষয়ে জানার আগে প্রথমে আমাদের জানতে হবে যে, যাকাত
ফিতরা আদায়ের জন্য যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায় (১.৫ অনুচ্ছেদে এই বিষয়ে আলোচনা
করা হয়েছে) তাদের মধ্যে তামলিক অর্থাৎ যাকাত প্রাপক কে মালিক বানানো শর্ত। এখন
যদি আপনি কোন মাদ্রাসা বা প্রতিষ্ঠানে QR Code এর মাধ্যমে যাকাত বা ফিতরা
দান করেন আর এই QR Code টি যদি যাকাত বা ফিতরা
গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট করা থাকে না এবং আপনিও ঐ QR Code এ যাকাত দিয়েছেন বলে
কর্তৃপক্ষকে জ্ঞাত না করেন, তাহলে আপনার যাকাত আদায়
হবে না, আপনার দান নফল সদকা হিসাবে আদায় হবে। কারণ যাকাত
আদায়ের জন্য মালিক বানানো শর্ত হওয়ার দরুন, যে
কোন প্রতিষ্ঠানে QR Code মারফতে যাকাত বা ফিতরা
দিলে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে হবে বা QR Code টি
যাকাত গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট থাকতে হবে। কর্তৃপক্ষ এই টাকা যাকাতের ফাণ্ডে জমা
করে শর্ত অনুযায়ী শরীয়ত সম্মত ভাবে ব্যবহার করতে হবে। অন্যতায় যাকাত আদায় হবে
না। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক ভাবে শরীয়তের প্রত্যেকটি হুকুম পালন করার তৌফিক দান
করুন।
DOWNLOAD PDF

Comments
Post a Comment